সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আজাদী ও আত্মত্যাগের গান লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান

 আজাদী ও আত্মত্যাগের গান

লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান 

​স্থায়ী:

আজাদীর তরে হাদীরা যখন

বিলিয়ে দেয় প্রাণ,

চুপ করে বসে থাকা

নিজেকে নিরপেক্ষ রাখা

আমার পক্ষে বড্ড বেমানান

বড্ড বেমানান

বড্ড বেশি বেমানান

আজাদীর তরে হাদীরা যখন

বিলিয়ে দেয় প্রাণ।

​অন্তরা ১:

রক্তে যখন লাল হয়ে যায়

সবুজ ঘাসের গালিচা,

কেমন করে ভুলবো তবে

শহীদী খুনের বাগিচা?

আকাশে যখন বারুদ ওড়ে

বাতাসে লাশের ঘ্রাণ,

জালিমের ভিত নাড়িয়ে

ছিলো সে স্থির দাড়িয়ে

মৃত্যুর ভয় ভুলে হাদী 

করেছিলো বুক টান

তবু চুপ করে বসে থাকা

নিজেকে নিরপেক্ষ রাখা

আমার পক্ষে বড্ড বেমানান

বড্ড বেমানান

বড্ড বেশি বেমানান

আজাদীর তরে হাদীরা যখন

বিলিয়ে দেয় প্রাণ।

​অন্তরা ২:

শিকল ভাঙার গান গেয়ে যারা

হাসিমুখে বরণ করে ফাঁসি,

তাদের স্মৃতি মুছে ফেলে যদি

ঠোঁটে ফোটে মিথ্যে হাসি—

সে হাসি তো নয় জয়ের চিহ্ন

সে তো এক গভীর অপমান,

এমন বীর বিসর্জনে 

যদি বিদ্রোহ না জাগে মনে

তার বেঁচে থাকাটা 

শিয়াল কুকুরের সমান 

বড্ড বেমানান 

বড্ড বেশি বেমানান 

​সঞ্চারী:

ঘরকোণা সেই ভীরু কোলাহল

মুছে যাক আজ সব দ্বিধা,

হকের লড়াইয়ে সামিল না হওয়া

নিজের কাছেই এক বড় বাধা।

আমিও লড়বো এদেশ গড়বো

যায় যদি যাক এই প্রাণ 

যায় যদি যাক এই প্রাণ 

যায় যদি যাক প্রাণ 

চুপ করে বসে থাকা

নিজেকে নিরপেক্ষ রাখা

আমার পক্ষে বড্ড বেমানান

বড্ড বেমানান

বড্ড বেশি বেমানান

আজাদীর তরে হাদীরা যখন

গায় মরণের গান।

​আভোগ:

মায়ের চোখের অশ্রু যখন

সাগর হয়ে আছড়ে পড়ে,

অবিচারের এই মরণ খেলায়

কে বা বাঁচবে আপন ঘরে?

তাই কলম ধরো কিম্বা হাত

গাও বিজয়ের সাম্যগান,

হাদীরা যেখানে প্রাণ দিয়ে যায়

সেখানে নীরবতা এক পিছুটান

বড্ড বেমানান।


চুপ করে বসে থাকা

নিজেকে নিরপেক্ষ রাখা

আমার পক্ষে বড্ড বেমানান

বড্ড বেমানান

বড্ড বেশি বেমানান

আজাদীর তরে হাদীরা যখন

বিলিয়ে দেয় প্রাণ।

-----:---

কুয়েত থেকে 

https://www.facebook.com/share/v/15TqYZnFGX3/

আমার পছন্দের কথাগুলোর যে তেজ এবং বিদ্রোহের সুর, তা মাথায় রেখে এই গানটি মূলত 'কাহারবা' তালে গাইতে পারলে সবচেয়ে বেশি মানানসই হবে।

​তবে গানের মেজাজ অনুযায়ী দুটি ভিন্ন তাল চিন্তা করা যায় :

​১. কাহারবা তাল (৮ মাত্রা)

​এটি ৪/৪ ছন্দের একটি দ্রুত তাল। এই তালের 'ধাগি ধিনা নাধি ধিনা' বোলটি গানে এক ধরনের উদ্দীপনা এবং মার্চিং (Marching) আবহ তৈরি করে। প্রতিবাদী গান বা দেশাত্মবোধক গণসংগীতের জন্য এটি সবচেয়ে জনপ্রিয়। এই তালে গাইলে গানের প্রতিটি শব্দে একটি বলিষ্ঠ ছন্দ পাওয়া যাবে।

​২. দাদরা তাল (৬ মাত্রা)

​যদি গানটিকে একটু ধীরলয়ে এবং আবেগের সাথে যদি কেউ গাইতে চান, তবে ৬ মাত্রার দাদরা তালে গাইতে পারেন। এটি গানের ভেতরের হাহাকার এবং দেশপ্রেমের আর্তি প্রকাশ করতে সাহায্য করবে।

​পরামর্শ:

গানের কথাগুলো যেহেতু 'আজাদী' এবং 'আত্মত্যাগ' নিয়ে, তাই আমি কাহারবা তালে কিছুটা দ্রুত লয়ে গাওয়ার পরামর্শ দেব। এতে গানের "বড্ড বেমানান" অংশটিতে যে দ্রোহ আছে, তা শ্রোতার হৃদয়ে শক্তভাবে আঘাত করবে।

​কেউযদি চান আমি এই গানের জন্য একটি প্রাথমিক সুরের নির্দেশনা বা কম্পোজিশন আইডিয়া দেব?


👉 গানটির তেজ এবং দ্রোহকে ফুটিয়ে তোলার জন্য আমি একটি সুরের কাঠামো বা কম্পোজিশন আইডিয়া দিচ্ছি। এটি আপনি হারমোনিয়াম বা গিটারে চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

​গানটির জন্য 'ভৈরব' বা 'আভেরি' রাগের মিশ্রণে একটি জেদী ও গম্ভীর সুর দিলে তা দারুণ ফুটবে।

​১. স্থায়ী (মুখড়া): জোর ও বলিষ্ঠ কণ্ঠ

​আজাদীর তরে হাদীরা যখন...: সুরটা শুরু হবে মাঝামাঝি পর্দা (সা) থেকে এবং 'প্রাণ' শব্দটা একটু উঁচু পর্দায় টেনে শেষ হবে।

​চুপ করে বসে থাকা / নিজেকে নিরপেক্ষ রাখা: এই অংশটুকু গাইতে হবে কিছুটা দ্রুত এবং কাটা-কাটা স্বরে (Staccato style), যেন প্রতিটি শব্দে বিরক্তি বা ঘৃণা প্রকাশ পায়।

​বড্ড বেমানান / বড্ড বেশি বেমানান: এখানে সুরটা খুব নিচু থেকে ধীরে ধীরে সপ্তকের উঁচুতে উঠে যাবে। "বেমানান" শব্দটা এমনভাবে জোর দিয়ে বলতে হবে যেন তা কানে বাজে।

​২. অন্তরা ১ (প্রথম প্যারা): বর্ণনা ও বিষাদ

​রক্তে যখন লাল হয়ে যায় / সবুজ ঘাসের গালিচা: এখানে সুরটা কিছুটা করুণ হবে, যেন দৃশ্যের ভয়াবহতা বোঝা যায়।

​বিবেক যখন দেয় না সাড়া: এই লাইন থেকে সুর আবার চড়তে শুরু করবে এবং 'অসম্মান' শব্দে এসে গানটি আবার 'স্থায়ী'র মতো জেদী সুরে ফিরে যাবে।

​৩. গানের তালের ব্যবহার (Beat Placement)

​কাহারবা তাল (৮ মাত্রা): ১-২-৩-৪ / ৫-৬-৭-৮

​তালি শুরু: গানের 'আ-জাদী'-র 'আ' থেকে তাল শুরু হবে।

​ড্রামস বা তবলার ব্যবহার: গানে একটি 'মার্চিং ড্রাম' বা তবলার শক্ত বোল ব্যবহার করলে বিপ্লবের আবহ তৈরি হবে। বিশেষ করে "বড্ড বেমানান" বলার সময় বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ একটু জোরালো হবে।

​৪. যান্ত্রিক সংগীত (Instrumentation)

​শুরুতে একটি বাঁশির করুণ সুর দিয়ে শুরু হয়ে হঠাৎ গিটারের স্ট্রামিং বা তবলার দাদরা/কাহারবা চাটি দিয়ে গানটি মূল গতিতে ফিরবে।

​গানের মাঝখানে কোনো বাদ্যযন্ত্রের বিরতি থাকলে সেখানে যুদ্ধের দামামার মতো একটা শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে।

​একটি ছোট্ট উদাহরণ (সুরের গ্রাফ):

​(নিচু সুর) চুপ করে বসে থাকা...

(মধ্যম সুর) নিজেকে নিরপেক্ষ রাখা...

(উচ্চ সুর) আমার পক্ষে বড্ড বেমানান! (একটু চিৎকার বা চিৎকারের কাছাকাছি তীব্রতা দিয়ে)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?

 মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?  ইদানিং আমাদের দেশের একটা দল বা গুষ্টি মসজিদের ভিতরে আলোচনা করা নিয়ে খুব ধার্মিকতা দেখাচ্ছে,  অথচ রাসূল (সাঃ)-এর যুগে এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের উত্তম যুগে মসজিদে বসেই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আঞ্জাম দেওয়া হতো। ​মসজিদ, বিশেষ করে মসজিদে নববী, সেসময় শুধু নামাযের স্থান ছিল না। এটি ছিল মদিনা রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রাণকেন্দ্র। ​মসজিদে নববীর বহুমুখী ভূমিকা ​রাসূল (সাঃ)-এর সময় এবং পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে মসজিদ প্রধানত নিম্নলিখিত কাজগুলোর কেন্দ্র ছিল: ​রাষ্ট্রীয় কার্যনির্বাহী কেন্দ্র: খলিফারা মসজিদে বসেই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ সভা (শুরা) করতেন। এটি এক প্রকার কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের মতো কাজ করত। ​বিচার বিভাগীয় কেন্দ্র: মসজিদ ছিল ন্যায়বিচার ও সালিশের প্রধান স্থান। খলিফা বা নিয়োজিত বিচারকগণ এখানেই জনগণের অভিযোগ শুনতেন এবং বিচারকার্য সম্পন্ন করতেন। শিক্ষাকেন্দ্র: নতুন মুসলিমদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়া, কুরআন ও হাদিসের দারস প্রদান এবং জ্ঞানের চর্চার ...

তৃতীয় দৃষ্টি

 তৃতীয় দৃষ্টি  ----:---- খারাপ ছবি খারাপ ভিডিও খারাপ আমি জানি, গল্প কবিতায় খারাপ শব্দ খারাপ কজনে মানি? বেশ্যা শব্দ ভীষণ খারাপ বলবে সবাই নির্দ্বিধায়, সেই বেশ্যা পাড়ার মাটি দিয়ে দুর্গা মুর্তি তৈরী হয়। কাকে তুমি খারাপ বলবে খদ্দর নাকি পতিতা? তোমার চোখে খারাপ কে চিন্তা নাকি কল্পিতা?  লজ্জা তোমার কোথায় থাকে মনে নাকি চোখে?  কেন তোমার মনে কামনা জাগে শিশু খাদ্য দেখে?  প্রশ্ন করবে নিজেকে নিজে কি পরিবর্তন দরকার! চার এপাশের সমাজ ব্যবস্থা নাকি রাষ্ট্রের সরকার? --কুয়েত থেকে ১০ /০৫ /২০২৫