সীমান্তের দুষ্ট শকুন
লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান
----:----
অনেক নির্মমতা দেখে এলাম
বহু বছর ধরে বাংলাদেশে আমি,
বাপ তার জামায়াত ছিল বলে
দুধের শিশুও হয়েছিল আসামি।
তিনবারের বৈধ প্রধানমন্ত্রী,
স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়ার স্ত্রী—
বয়োবৃদ্ধ বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি
যে জুলুম করা হয়েছে, তা হার মানে সকল নিয়ম-নীতি।
ধানের শীষে ভোট দিয়েছে বলে
চার সন্তানের জননী গণধর্ষণের শিকার!
টাকনু গিরায় উপর কাপড় পরলেই
মেরে ফেলার ছিল যে রাষ্ট্রীয় অধিকার।
আজান, খুতবা, জানাজা পড়াও
ছিল হায়েনাদের হাতেই নিয়ন্ত্রিত,
কী করে ভুলে যাই বলো শাপলা চত্বরের স্মৃতি—
এখনো বুকে আলেম-ওলামা হত্যার নির্মম ক্ষত।
কত নিরপরাধ জঙ্গি নাটকে
প্রতিদিন হারিয়েছে তার প্রাণ,
মায়ের পেটের দুধের শিশুও যে
নির্মমতার হাত থেকে পায়নি পরিত্রাণ।
স্বামীর কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে
ইস্কুলেই স্ত্রীকে করেছে গণধর্ষণ,
ডোবা-নালায় কত যে লাশ মিলতো,
কত মা-বোন দিয়েছে অশ্রুবিসর্জন।
আবু সাঈদ, মুগ্ধরা জীবন দিয়ে
বাংলার আকাশে আনল যে আজাদি।
সেই রক্তলাল আজাদিকে রক্ষা করতে
জীবন দিয়ে গেল শহীদ শরিফ ওসমান হাদী।
হে সীমান্তের দুষ্ট শকুনের দল,
মানবতা শিখাতে এসো না আমাদের।
এখনো ঘুমের ঘোরে চিৎকার করে মানুষ,
গত ১৭ বছরের নির্মমতা মনে করে তোমাদের।
আর কোনো স্বৈরাচার জন্ম নেবে না,
আর কোনো মায়ের বুক খালি হবে না—
শপথ আপামর জনতার, শপথ তরুণ প্রজন্মের।
হে সীমান্তের দুষ্ট শকুনের দল,
মানবতা শিখাতে এসো না আমাদের।
এখনো ঘুমের ঘোরে চিৎকার করে মানুষ,
গত ১৭ বছরের নির্মমতা মনে করে তোমাদের।
কুয়েত থেকে
২৫/০১/২০২৬
একজন পাঠকের করা
মর্মার্থ (সারাংশ):
কবিতাটি গত ১৭ বছরের (প্রায় ২০০৯–২০২৪) বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গণধর্ষণ, ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ ও অত্যাচারের তীব্র প্রতিবাদ।
বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে:
জামায়াত-সমর্থকদের (এমনকি শিশু) উপর নির্যাতন
বিএনপি সমর্থক নারীদের গণধর্ষণ
বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি অমানবিক আচরণ
শাপলা চত্বরে (২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে) আলেম-ওলামাদের হত্যা ও নির্যাতন
আজান-জানাজা-খুতবা নিয়ন্ত্রণ
“ক্রসফায়ার” বা জঙ্গি নাটকে নিরপরাধ হত্যা
২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম মুগ্ধ, শরিফ ওসমান হাদীদের আত্মত্যাগ—যারা স্বৈরাচার উৎখাত করে “রক্তলাল আজাদি” এনেছে।
“সীমান্তের দুষ্ট শকুনের দল” বলতে প্রতিবেশী দেশ (সম্ভবত ভারত) থেকে আসা কিছু মহল বা তাদের প্রভাবিত গোষ্ঠীকে বোঝানো হয়েছে—যারা এখন বাংলাদেশকে মানবতা, গণতন্ত্র শেখাতে আসছে। লেখক তাদের কঠোরভাবে বলছেন: তোমরা আমাদের মানবতা শেখাতে এসো না। আমরা তোমাদের (বা তোমাদের সমর্থিতদের) ১৭ বছরের নির্মমতা ভুলিনি—এখনো সেই যন্ত্রণা ঘুম ভাঙিয়ে চিৎকার করে।
এখন জনগণ ও তরুণ প্রজন্মের শপথ—আর কোনো স্বৈরাচার ফিরবে না, আর কোনো মায়ের বুক ফাঁকা হবে না।
কবিতাটি খুবই শক্তিশালী, আবেগময় ও প্রতিবাদী। আপনার লেখার ধার অসাধারণ, বন্ধু!
আমি গর্বিত আপনার লেখাটি পড়তে
পেরে, যদি আমার করা মর্মার্থ এ কোন ভুল হয় ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন