সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবার

 নারায়ে তাকবীর 

আল্লাহু আকবার 

স্লোগান দেয়ায় শান্তার হাত থেকে মাইক কেড়ে নিয়ে সেদিন যে অপমান করেছিলো ছাত্রদলের ছেলেরা, আজ নিরঙ্কুশ বিজয় দিয়ে ছাতদলের গালে কষে থাপ্পড় মারল শান্তা।


শান্তার এই বিজয় সামাজিক ও ধর্মীয় উভয় দিক থেকেই বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ইসলামের দৃষ্টিতে কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় বিশ্বাস বা স্লোগানকে কেন্দ্র করে তাকে অপমান করা এবং পরবর্তীতে সেই ব্যক্তির চারিত্রিক ও কর্মগুণে জয়ী হওয়ার বিষয়টি কয়েকটি মূলনীতি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়:

​১. অপমানের বিপরীতে আল্লাহর সম্মান

​ইসলাম শেখায় যে, সম্মান ও অপমানের মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:

قُلِ ٱللَّهُمَّ مَـٰلِكَ ٱلْمُلْكِ تُؤْتِى ٱلْمُلْكَ مَن تَشَآءُ وَتَنزِعُ ٱلْمُلْكَ مِمَّن تَشَآءُ وَتُعِزُّ مَن تَشَآءُ وَتُذِلُّ مَن تَشَآءُ ۖ بِيَدِكَ ٱلْخَيْرُ ۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ٢٦

​"বলুন, হে আল্লাহ! আপনিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী... আপনি যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন আর যাকে ইচ্ছা অপমানিত করেন।" (সূরা আল-ইমরান: ২৬)

​শান্তাকে যদি তার ধর্মীয় স্লোগানের কারণে অপমানিত হতে হয়ে থাকে, তবে আজকের এই নিরঙ্কুশ বিজয় প্রমাণ করে যে, মানুষের অপচেষ্টা কারো সম্মান কেড়ে নিতে পারে না যদি আল্লাহ তাকে সম্মানিত করতে চান। এটি মূলত ধৈর্যের প্রতিদান।


​২. তাকবীরের মর্যাদা ও সংকীর্ণমনা আচরণ

​'আল্লাহু আকবার' (আল্লাহ মহান) কেবল একটি স্লোগান নয়, এটি মুসলিমের হৃদয়ের স্পন্দন। ইসলামের দৃষ্টিতে, এই স্লোগান দেওয়ার কারণে কাউকে বাধা দেওয়া বা মাইক কেড়ে নেওয়া চরম অসৌজন্যমূলক এবং ধর্মীয় অনুভূতির অবমাননার শামিল। যারা সংকীর্ণ রাজনৈতিক বা আদর্শিক কারণে মহান আল্লাহর নাম নিতে বাধা দেয়, তাদের পরাজয় নৈতিকভাবে অবধারিত।


​৩. বিজয়ের মাধ্যমে জবাব দেওয়া (উত্তম প্রতিশোধ)

​ইসলামে ব্যক্তিগত অপমানের প্রতিশোধ হাত দিয়ে চড় মেরে নয়, বরং নিজের যোগ্যতা ও সফলতার মাধ্যমে দেওয়াকে উৎসাহিত করা হয়েছে। শান্তা যে আজ ব্যালট বা সমর্থনের মাধ্যমে জয়ী হয়েছেন, এটিই সবচেয়ে বড় এবং মর্যাদাপূর্ণ জবাব। কুরআনে বলা হয়েছে:

ٱدْفَعْ بِٱلَّتِى هِىَ أَحْسَنُ ٱلسَّيِّئَةَ ۚ نَحْنُ أَعْلَمُ بِمَا يَصِفُونَ ٩٦

​"মন্দের জবাব দিন তা দ্বারা যা উৎকৃষ্ট।" (সূরা মুমিনুন: ৯৬)


​৪. দাম্ভিকতার পতন

​যারা ক্ষমতার দাপটে অন্যের কণ্ঠরোধ করতে চায়, তাদের সম্পর্কে ইসলাম সতর্ক করেছে। অহংকার বা দম্ভ (কিবর) পতনের মূল কারণ। ছাত্রদলের সেই কর্মীদের আচরণ যদি দাম্ভিকতাপূর্ণ হয়ে থাকে, তবে আজকের ফলাফল তাদের জন্য একটি বড় শিক্ষা যে, মানুষের হৃদয় জয় করতে হয় ভালোবাসা ও সম্মান দিয়ে, জোর করে মাইক কেড়ে নিয়ে নয়।


​উপসংহার

​শান্তার এই বিজয় কেবল একজন ব্যক্তির বিজয় নয়, বরং এটি ধৈর্যের এবং বিশ্বাসের বিজয়। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত যে—কেউ যদি আল্লাহর ওপর ভরসা করে সত্য পথে অটল থাকে, তবে সাময়িক অপমান তাকে বিচ্যুত করতে পারে না; বরং আল্লাহ তাকে আরও বড় মর্যাদার আসনে আসীন করেন।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করে, হেদায়েতের পথে কবুল করুন। আমীন 

✍️ এআই মোহাম্মদ মিজান 

কুয়েত থেকে 

০৮/০১/২০২৬ 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সময়ের উক্তি : ✍️মোহাম্মদ মিজান

সময়ের উক্তি ((((লেখক✍️মোহাম্মদ মিজান)))) বিবস্ত্রকে নির্লজ্জ বললে কিবা যায় আসে ! যাঁকে দেখে লজ্জা শরম মিটমিটিয়ে হাসে! হিংসুটেরা মহা খুশি আজ মাজারে করবে ফুর্তি, তাড়িয়ে ছাড়ল কুরআন পাখি দিয়ে ভ্রান্ত যুক্তি । অন্ধের দেশে   কুরআন আয়না          বেচতে এলেন                   আজহারী,             গাঁজার কোলকি           হাতে নিয়ে    তাড়িয়ে ছাড়ল মাজারী। (মোহাম্মদ মিজান) কে মাজারী?কে বাজারি? চিনিয়ে দিল আজহারী, বুঝে গেছেন এ যুবসমাজ কুরআন বেশি দরকারি। (মোহাম্মদ মিজান) নর্তকী আর হরতকি কদিন থাকে শাখে? ভালো মানুষেরা এ তেল গায়ে কি আর মাখে? (((মোহাম্মদ মিজান))) ঝর্ড় বৃষ্টি কিছুই নেই তবু হুজুরের       জনপ্রিয়তার সংকট , বর্তমান যুবসমাজ সচেতন তাই        শুরু হয়েছে বয়কট। (((মোহাম্মদ মিজা...

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

যদি এমন হয়!!!

 যদি এমন হয়!!!  ✍️ মোহাম্মদ মিজান ............ 🇧🇩 ........  #আইচ্ছা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যার যদি বলেন চার বাহীনির প্রধান এখন থেকে আমি এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেই আমি এই পদ গুলো ছেড়ে দেব, তখন কি করবেন? #আগামী কাল ঘুম থেকে উঠে যদি শুনেন প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যার আওয়ামী লীগের নিয়োগ দেওয়া বিতর্কিত ব্যক্তি শাহাব উদ্দিন চুপ্পুকে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন! এবং তিনি ঘোষণা করেছেন যে আগামীতে যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে তারাই একজন যোগ্য লোককে নতুন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিবে সবার মতামতের ভিত্তিতে, তখন কারো কিছু করার থাকবে কী?  #আজকে কেন জানি আমার মনে হচ্ছে যদি নির্বাচন কমিশন এমন একটা আইন জারি করে যে আগামী নির্বাচনে যেই দল যে আসনে প্রার্থী ঘোষণা করবে সেখানে যদি ঐ দলেরই কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়ায় তবে ঐ দলের কেউ ঐ আসনে আর নির্বাচন করতে পারবে না, দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন এমন আইন করতেই পারে তখন দল গুলোর অবস্থা কেমন হবে?  #সর্ব শেষ একটা কথা বলি - য...