সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

শিরোনাম: আইনের শাসন নাকি প্রভাবশালীদের জন্য বিশেষ ছাড়?

 শিরোনাম: আইনের শাসন নাকি প্রভাবশালীদের জন্য বিশেষ ছাড়?

​"টাকাটা দিয়ে দিয়েন"—এই শর্তে যখন ১৭০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপির মনোনয়ন বৈধ হয়, তখন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগাটা কি খুব অন্যায়?

​সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনার মো. সানাউল্লাহ সাহেব বলেছেন, "মনে কষ্ট নিয়ে ঋণখেলাপিদের ছাড় দিয়েছি।" প্রশ্ন হলো—রাষ্ট্রীয় আইন কি মনের কষ্ট বা আবেগের ওপর চলে, নাকি অকাট্য প্রমাণের ওপর? যেখানে সামান্য কয়েক হাজার টাকার কৃষি ঋণের জন্য সোনাগাজী বা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকের কোমরে দড়ি পড়ে, সেখানে ১৭০০ কোটি টাকা খেলাপি হওয়ার পর "টাকা দিয়ে দেব" এমন মৌখিক প্রতিশ্রুতিতে মনোনয়ন পাওয়াটা আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য এক বড় পরিহাস।

​সাথে যুক্ত হয়েছে 'দ্বৈত নাগরিকত্ব' বিতর্ক:

আইন অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকত্ব বহাল রেখে বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশ নেওয়া অবৈধ। কিন্তু আমরা দেখছি, অনেক প্রার্থীর ক্ষেত্রে এই তথ্য গোপন করার বা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও বিশেষ আনুকূল্য পাওয়ার অভিযোগ উঠছে। একদিকে হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ লোপাট, অন্যদিকে বিদেশের মাটিতে সেকেন্ড হোম—এই দ্বৈত চরিত্রের মানুষগুলো যখন আইনপ্রণেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখে, তখন সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার এবং দেশপ্রেম অর্থহীন হয়ে পড়ে।

​আমার দাবি ও প্রশ্ন:

১. ঋণখেলাপি এবং দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ কেন চিরতরে বন্ধ করা হচ্ছে না?

২. আইন কি শুধু গরিবের জন্য? প্রভাবশালীরা কেন বারবার আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাবে?

৩. ইসি কি কেবল অসহায়ত্ব প্রকাশ করবে, নাকি কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করবে?

​মনে কষ্ট নিয়ে নয়, বরং আইন মেনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন দেখতে চাই। যেখানে মেধা এবং সততার মূল্যায়ন হবে, টাকার পাহাড় বা বিদেশি পাসপোর্টের নয়।

আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সবাইকে হ্যাঁ ভোট দিতে অনুরোধ করছি।

✍️ এআই মোহাম্মদ মিজান

কুয়েত থেকে

#HadiIsBangladesh 

​#Election2026 #নির্বাচন_কমিশন #ঋণখেলাপি #দ্বৈত_নাগরিকত্ব #সুশাসন #বাংলাদেশ

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?

 মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?  ইদানিং আমাদের দেশের একটা দল বা গুষ্টি মসজিদের ভিতরে আলোচনা করা নিয়ে খুব ধার্মিকতা দেখাচ্ছে,  অথচ রাসূল (সাঃ)-এর যুগে এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের উত্তম যুগে মসজিদে বসেই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আঞ্জাম দেওয়া হতো। ​মসজিদ, বিশেষ করে মসজিদে নববী, সেসময় শুধু নামাযের স্থান ছিল না। এটি ছিল মদিনা রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রাণকেন্দ্র। ​মসজিদে নববীর বহুমুখী ভূমিকা ​রাসূল (সাঃ)-এর সময় এবং পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে মসজিদ প্রধানত নিম্নলিখিত কাজগুলোর কেন্দ্র ছিল: ​রাষ্ট্রীয় কার্যনির্বাহী কেন্দ্র: খলিফারা মসজিদে বসেই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ সভা (শুরা) করতেন। এটি এক প্রকার কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের মতো কাজ করত। ​বিচার বিভাগীয় কেন্দ্র: মসজিদ ছিল ন্যায়বিচার ও সালিশের প্রধান স্থান। খলিফা বা নিয়োজিত বিচারকগণ এখানেই জনগণের অভিযোগ শুনতেন এবং বিচারকার্য সম্পন্ন করতেন। শিক্ষাকেন্দ্র: নতুন মুসলিমদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়া, কুরআন ও হাদিসের দারস প্রদান এবং জ্ঞানের চর্চার ...

তৃতীয় দৃষ্টি

 তৃতীয় দৃষ্টি  ----:---- খারাপ ছবি খারাপ ভিডিও খারাপ আমি জানি, গল্প কবিতায় খারাপ শব্দ খারাপ কজনে মানি? বেশ্যা শব্দ ভীষণ খারাপ বলবে সবাই নির্দ্বিধায়, সেই বেশ্যা পাড়ার মাটি দিয়ে দুর্গা মুর্তি তৈরী হয়। কাকে তুমি খারাপ বলবে খদ্দর নাকি পতিতা? তোমার চোখে খারাপ কে চিন্তা নাকি কল্পিতা?  লজ্জা তোমার কোথায় থাকে মনে নাকি চোখে?  কেন তোমার মনে কামনা জাগে শিশু খাদ্য দেখে?  প্রশ্ন করবে নিজেকে নিজে কি পরিবর্তন দরকার! চার এপাশের সমাজ ব্যবস্থা নাকি রাষ্ট্রের সরকার? --কুয়েত থেকে ১০ /০৫ /২০২৫