সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের খোলসে বন্দি রাজনীতি:

 স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের খোলসে বন্দি রাজনীতি:

একটি স্বপ্নের অপমৃত্যু

​রাজনীতি আর সমাজসেবা এক জিনিস নয়। সমাজসেবা করা যায় নিভৃতে, কিন্তু রাজনীতি করতে হয় দাপটের সাথে, মাঠ দখল করে এবং জনগণের ম্যান্ডেটকে পাহারা দিয়ে। গত কয়েক মাস ধরে একদল তরুণ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নিজেদের জীবন বাজি রেখে যে হাইপ তৈরি করেছিল, যে জনসমর্থন জোয়ারে রূপ নিয়েছিল, ভোটের ফলাফলে তার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হওয়া কেবল পরাজয় নয়, বরং সমর্থকদের সাথে এক প্রকার 'বিশ্বাসঘাতকতা'।

​মিডিয়া বিমুখতার চড়া মাসুল

​যুগটা তথ্যের। যে পক্ষ মিডিয়া এবং ন্যারেটিভ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তারা যুদ্ধের আগেই হেরে যায়।

মনে আছে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুদ্ধ কৌশল? তিনি যুদ্ধের ময়দানে চুলা বেশি আর টয়লেট কম বানাতে বলেছিলেন, কারণ টয়লেট কম হলে সৈনিকদের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, আর চুলা বেশি হলে বহু জায়গা থেকে ধুঁয়া উঠবে।

শত্রু পক্ষ মনে করবে এদের সৈন্য দল অনেক বড়, আর তাতেই তাদের মনে ভয় জাগবে। এই কৌশলে কাজও দিয়েছে সেই যুদ্ধে।

বার বার জামায়াতে ইসলামীকে বারবার মিডিয়া হাউস তৈরির তাগিদ দেওয়া হলেও তারা নফল ইবাদত আর ত্রাণ বিতরণে যতটা আগ্রহী ছিল, একটি শক্তিশালী মিডিয়া উইং গড়তে ততটাই উদাসীন ছিল। ফলাফল? ভোটের দিন যখন মিডিয়া সাইকোলজিক্যাল গেম খেলে নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছিল, তখন এই বিশাল সংগঠনের হাতে পাল্টা জবাব দেওয়ার মতো কোনো প্ল্যাটফর্ম ছিল না। অন্যের প্ল্যাটফর্মে ধার করা রাজনীতি দিয়ে রাজপথ জেতা যায় না।

​নেতৃত্বের দোটানা ও রিসোর্সের দোহাই

​নুরুল ইসলাম সাদ্দাম সাহেবদের মতো নেতাদের যখন বলতে শোনা যায় যে, তারা "শক্তিশালী বিরোধী দল" হতে চান বা "জামায়াতের এই মূহুর্তে দেশ চালানোর সক্ষমতা নেই"—তখনই আসল পরাজয়ের বীজ বপন করা হয়। যে দল ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে না, জনগণ কেন তাদের ভোট দিয়ে নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলবে? ফরেন অ্যাফেয়ার্স বা রাষ্ট্রীয় রিসোর্স রাতারাতি তৈরি হয় না, এগুলো চর্চার বিষয়। কিন্তু বিজয়ী আসনগুলো যখন চোখের সামনে ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছিল, তখন নেতৃত্বের এই 'চুপচাপ মেনে নেওয়া'র সংস্কৃতি প্রমাণ করে তারা এখনো একটি রাজনৈতিক দলের চেয়ে 'স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন' হিসেবে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।

​জুলাইয়ের স্বপ্ন বনাম বর্তমান বাস্তবতা

​জুলাই বিপ্লবের যে চেতনা নিয়ে যুবসমাজ রাজপথে নেমেছিল, যে প্রত্যাশা নিয়ে সাধারণ মানুষ সকল হুমকি উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে এসেছিল, সেই আমানত রক্ষা করতে বর্তমান নেতৃত্ব ব্যর্থ। ২০০৮ সালের সেই পুরনো স্ট্র্যাটেজিতে আবারও ধরা খাওয়া কিংবা ৮১টি আসনে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও সেগুলো 'গলাধঃকরণ' করে ঘুমিয়ে পড়া—শহীদ ওসমান হাদীর মতো লড়াকু নেতাদের উত্তরসূরীদের জন্য এটি মানায় না।


পরিশেষে বলা যায় ​আজকের এই ড্যামেজের দায়ভার মিডিয়া বিভাগসহ নীতিনির্ধারকদের নিতেই হবে। তরুণদের আবেগকে পুঁজি করে তাদের বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে নিরাপদ দূরত্বে বসে থাকার নাম নেতৃত্ব নয়। যদি জামায়াতে ইসলামী নিজেকে কেবল একটি চ্যারিটি সংগঠন হিসেবেই দেখতে চায়, তবে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়াই উত্তম। কারণ, রাজনীতির ময়দানে যারা বাঘের মতো লড়তে জানে না, তাদের জন্য ইতিহাসের পাতায় কেবল 'আফসোস' ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না।

​আমাদের শ্রম, আমাদের ত্যাগ আর জনগণের বিশ্বাস—সবই আজ নেতৃত্বের অদূরদর্শিতার বলি হলো।

বিএনপির নেতা কর্মীদের জন্য শুভ কামনা রইলো,

আশা করি তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করবে না।

ভারতের আগ্রাসন থেকে প্রিয় বাংলাদেশ ও দেশের মানুষকে রক্ষা করবে।

শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য সন্তান হিসেবে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করে তার যোগ্যতা প্রমাণ করবেন।

ভয় হচ্ছে বিএনপি ক্ষমতা পেয়ে জাতীয়তাবাদী আওয়ামী লীগ না হয়ে যায়! 

আল্লাহ আমাদের সবার মঙ্গল করুন - আমীন

✍️ মোহাম্মদ মিজান

কুয়েত থেকে

১৩ /০২/২০২৬

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?

 মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?  ইদানিং আমাদের দেশের একটা দল বা গুষ্টি মসজিদের ভিতরে আলোচনা করা নিয়ে খুব ধার্মিকতা দেখাচ্ছে,  অথচ রাসূল (সাঃ)-এর যুগে এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের উত্তম যুগে মসজিদে বসেই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আঞ্জাম দেওয়া হতো। ​মসজিদ, বিশেষ করে মসজিদে নববী, সেসময় শুধু নামাযের স্থান ছিল না। এটি ছিল মদিনা রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রাণকেন্দ্র। ​মসজিদে নববীর বহুমুখী ভূমিকা ​রাসূল (সাঃ)-এর সময় এবং পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে মসজিদ প্রধানত নিম্নলিখিত কাজগুলোর কেন্দ্র ছিল: ​রাষ্ট্রীয় কার্যনির্বাহী কেন্দ্র: খলিফারা মসজিদে বসেই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ সভা (শুরা) করতেন। এটি এক প্রকার কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের মতো কাজ করত। ​বিচার বিভাগীয় কেন্দ্র: মসজিদ ছিল ন্যায়বিচার ও সালিশের প্রধান স্থান। খলিফা বা নিয়োজিত বিচারকগণ এখানেই জনগণের অভিযোগ শুনতেন এবং বিচারকার্য সম্পন্ন করতেন। শিক্ষাকেন্দ্র: নতুন মুসলিমদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়া, কুরআন ও হাদিসের দারস প্রদান এবং জ্ঞানের চর্চার ...

তৃতীয় দৃষ্টি

 তৃতীয় দৃষ্টি  ----:---- খারাপ ছবি খারাপ ভিডিও খারাপ আমি জানি, গল্প কবিতায় খারাপ শব্দ খারাপ কজনে মানি? বেশ্যা শব্দ ভীষণ খারাপ বলবে সবাই নির্দ্বিধায়, সেই বেশ্যা পাড়ার মাটি দিয়ে দুর্গা মুর্তি তৈরী হয়। কাকে তুমি খারাপ বলবে খদ্দর নাকি পতিতা? তোমার চোখে খারাপ কে চিন্তা নাকি কল্পিতা?  লজ্জা তোমার কোথায় থাকে মনে নাকি চোখে?  কেন তোমার মনে কামনা জাগে শিশু খাদ্য দেখে?  প্রশ্ন করবে নিজেকে নিজে কি পরিবর্তন দরকার! চার এপাশের সমাজ ব্যবস্থা নাকি রাষ্ট্রের সরকার? --কুয়েত থেকে ১০ /০৫ /২০২৫