রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও আমাদের ভবিষ্যৎ: 👉সংঘাত নাকি সমঝোতা?
৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দেশের মানুষের মনে এক নতুন বাংলাদেশের আশা জেগেছিল। দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন আর নিপীড়নের পর সাধারণ মানুষ চেয়েছিল একটি শান্তিময়, বৈষম্যহীন ও নিরাপদ দেশ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রনেতাদের কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্রদের মধ্যে যে সংঘাত আমরা দেখছি, তা আমাদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।
১. উসকানিমূলক বক্তব্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
একটি গণতান্ত্রিক দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকা সত্ত্বেও কোনো নেতার মুখ থেকে যখন উগ্র বা উসকানিমূলক কথা আসে, তখন সেটি সমাজের স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করে। ছাত্রসমাজ বিপ্লবের অগ্রভাগে ছিল, তাই তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ ও কথা হতে হবে দায়িত্বশীল। উগ্র আচরণ বা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতা কেবল বিশৃঙ্খলাকেই ত্বরান্বিত করে।
২. মিত্র যখন প্রতিপক্ষ: বিএনপি-জামায়াত সমীকরণ
বিএনপি এবং জামায়াত দীর্ঘ সময় রাজপথে একসঙ্গে আন্দোলন করেছে। ১৭ বছরের প্রতিকূল সময়ে তারা একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হতেই কেন এই ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত? যখন একে অপরের রক্ত ঝরানো হয় বা জানমালের ক্ষতি করা হয়, তখন প্রশ্ন জাগে—গত দেড় দশকের ত্যাগ কি তবে শুধু ক্ষমতার জন্যই ছিল? জনগণের জানমালের নিরাপত্তা যেখানে প্রধান হওয়ার কথা, সেখানে ব্যক্তিগত বা দলীয় আধিপত্য বিস্তার কোনোভাবেই কাম্য নয়।
৩. নেতৃত্বের আদর্শ ও বর্তমান বাস্তবতা
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতির মূল ভিত্তি ছিল জনগণের সাথে সংযোগ। বেগম জিয়ার রাজনৈতিক জীবনে অনেক প্রতিকূলতা এলেও তার আচরণে একটি গাম্ভীর্য ও ধৈর্য লক্ষ করা গেছে। বর্তমান নেতৃত্বে যারা আছেন, বিশেষ করে তারেক রহমানের ওপর যে দায়িত্ব, সেখানে পূর্বসূরিদের ধৈর্য ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। স্বৈরাচারী মনোভাব থেকে বেরিয়ে এসে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
৪. আমরা কেমন বাংলাদেশ চাই?
সাধারণ মানুষ হিসেবে আমাদের চাওয়া খুব সামান্য:
নিরাপত্তা: প্রতিটি নাগরিক যেন তার ঘরে এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ বোধ করে।
আইনের শাসন: বিচার হবে আদালতের মাধ্যমে, রাজপথে উগ্র আচরণের মাধ্যমে নয়।
সহাবস্থান: ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহনশীলতা।
পরিশেষে বলতে চাই, ১৭ বছরের 'মজলুম' তকমা ঘুচিয়ে যদি আজ আমরা নিজেরাই শোষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হই, তবে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে সময় লাগবে না। আসুন, উগ্রতা পরিহার করে আমরা একটি শান্তিময় ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে হাঁটি।
✍️ মোহাম্মদ মিজান
কুয়েত থেকে
২২ /০৪/২০২৬
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন