-------বিবর্ণ জীবন ------
---মোহাম্মদ মিজান
- - - - - - //---------''----------
শৈবলিনীর কল্লোল থেমে গেছে
তটে নেই কোন তরঙ্গ,
নিশাকরের তনু তমিস্রে হারালো
আদিত্যের বিভাসিত অবগ্যা।
বিভীষিকাময় এই নিশীথিনী
কি করে করিব পার?
বৈরী আমার পিচু ছাড়েনি
কে রাখে সে খবর।
সবিতা কে আজ কবিতায় খুঁজি
কাঞ্চন ললাটে কেন তবু পয়োধর?
নন্দিনী আজ নিন্দিত হলো
নন্দদুলাল অরণ্যে হরিল সতীত্ব তাহার।
সুনাম খ্যাতি লুটিয়া পড়িল মৃত্তিকায়
রহিলোনা কিছু অবশিষ্ট ,
পদ্মাবতী ভাবিয়া কহিল বিধানসভায়
মনুষ্য কি করে হয় এত নিকৃষ্ট ?
গোরাঙ্গ আজ নিঃসঙ্গ রিক্ত পথিক
বিবর্ণ জীবন তরী,
মনুষ্য সমাজের প্রতি ঘৃণা জন্মালেও আবার
পাপ হবে যে ভারী ।
আত্মজা তাহার আত্মাহুতী দিল
কলংক করিতে মোচন,
ভবলীলা সাঙ্গ হতো তাহারও
বিধাতা দিতো যদি মরণ।
বইতে ভারী কষ্ট লাগে
মন মৃত দেহ কাষ্ঠ,
সর্বত্র ভাষা হীন গাত্রদাহ
হয়েছি দারুণ অতিষ্ঠ ।
বিবর্তনের আত্ম চিৎকার শুনিয়া ও
কর্ণপাত করিল না মহাদেব,
বড্ড বেশী অসহায় এই ধরণীতল
বিশ্বলয়ার আকুতি ভরা আক্ষেপ ।
রচনাকাল : ১৬ জানুয়ারি ২০১৮ ইং
প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন