-----সুসাইড নোট ----
- - - - মোহাম্মদ মিজান - - -
----সু--সা--ই--ড--নোট----
মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে আমার-
সাগরের বুকে ঝাপিয়ে পড়ি,
মাঝে মাঝে মন চায়
সর্বোচ্চ ছুড়া থেকে লাফিয়ে পড়ি।
মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে পেট ভরে
বিষ খেয়ে শিখি,
মাঝে মাঝে মন চায়
নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে দেখি।
দগ্ধ মনের গন্ধ তোমরা পাওনা তাই ,
আজ শরীরটাই পোড়াতে চাই ।
কষ্ট গুলো লুকিয়ে রাখি বলে-
কষ্ট দিলে সবাই ,
আমিও তোমাদের কে সুখি করতে
রক্ত অশ্রু ঝরাতে চাই ।
অবহেলা থেকে যে গাছের জন্ম হয়-
সে গাছ কি ফল দিবে পৃথিবীকে?
অশান্তির আগুন জ্বালিয়ে বিশ্বময়-তাতে সুখ খুঁজে পাবে কে?
মাঝে মাঝে মনে হয় বিশ্বাসটাকে গুলিয়ে খাই পানিতে ,
মাঝে মাঝে মন চায় বেইমান বন্ধুকে পিষে ফেলি মাটিতে।
মাঝে মাঝে মনে হয় পৃথিবীতে-
ভাই না থাকলেই ভালো হত,
মাঝে মাঝে মন চায় -
হৃদয়টা তুলে দেই তার হাতে -
যে হৃদয়ে শুধুই তার দেয়া ক্ষত।
মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে অভিমান করি-প্রিয় বন্ধুটির উপর,
কিন্তু তাও পারিনা আমি-
মনুষ্যত্ব টেনে ধরে বুকের পাঁজর।
মাঝে মাঝে মনে হয় একটা জিনিস- বেশ পারবো করতে-
নিজেকে লুকিয়ে নিতে গাঢ় অন্ধকারে,
কিংবা হারিয়ে যেতে
অজানা কোনো গহ্বরে।
আজ থেকে সেই চেষ্টাই করে যাব
প্রিয় বন্ধু,
নিয়ে বুক ভরা বেদনা বিধুর ব্যথার সিন্ধু।
ভালো থেকো পৃথিবী-
ভালো থেকো জগৎ প্রাণী সকলে,
আমিই না হয় হারিয়ে গেলাম
তোমাদের মাঝ থেকে অকালে।
মুছে দিয়ে নাম পরিচয়
হবো ধ্রুব তারা,
তখন আমায় করবে কি মনে?
ধরনী তলের বন্ধুরা?
মাঝে মাঝে মনে হয়
কেউ কি খুলে দেখবে
আমার এই সুসাইড নোট?
নাকি সাগরের বুকে
ভাসমান কাগজ ভেবে ডুবিয়ে দিবে
কোনো এক হিংস্র বোট?
রচনাকাল : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ইং
প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন