সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আজ কোনো কবিতা নয়

 আজ কোন কবিতা নয় 

শুধু বাস্তবতা লিখছি,

গত পনেরো বছর দেখা

ও বর্তমান যা দেখছি।


গত ১৫ বছর ধরে যে মানুষটি

স্বৈরশাসকের খুব কাছের মানুষ ছিল, 

হাজার জুলম অত্যাচার দেখেও

একটুও প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেনি, 

সেই এখন বিশাল প্রতিবাদী! 


যদি সাংবাদিকের কথা দিয়েই শুরু করি- তবে বলতে হয় যারা 

স্বৈরশাসকের পা চেটে পত্রিকা বা চ্যানেল পেয়েছে, 

আর সেই চ্যানেলে দিন রাত ইনিয়ে বিনিয়ে তৈলাক্ত খবর আর কলাম লিখেছে- 

বাজারে যখন ১২০০ কাঁচা মরিচের কেলো ছিলো, ২৫০ টাকা পেঁয়াজ ছিলো, তখন তারা একটি নিউজ ও করেনি। 

আর এখন বিপ্লবী সরকারের আমলে কাঁচা মরিচ দুইশো টাকা কেন ফলাও করে খবর প্রচার করে! 

অথচ একটিবারও বলেনা স্বৈরাচারের দোসর সিন্ডিকেট বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বিপ্লবী সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে! 

তাদেরকে চিহ্নিত না করে সরকারের সমালোচনা করছে! 

এদের উদ্দেশ্য কি তা জাতির কাছে স্পষ্ট হলেও কি করে তারা এখনো বহাল তবিয়তে আছে তা আমার বোধগম্য নয়।


আর জাতির বিবেক কবি সাহিত্যিকদের কথা বলতেও আজ লজ্জা লাগে আমার, এতো নিকৃষ্ট মনের পরিচয় দিয়েছে যে তাদের নাম মুখে আনতেও ঘৃণা করে। 

তবে গুটিকয়েক জন সাংবাদিক, কবিও সাহিত্যিক প্রতিবাদ করেছেন তাদেরকে অবশ্যই সম্মান করি। 


এতো গুলো তাঁজা প্রাণ ঝরে গেল, এক নদী রক্তে রাজপথ ভেসে যাওয়া দেখেও যাদের বিবেক জাগ্রত হয়নি 

আমি তাদেরকে মানুষ বলি না। 

এদের ভুমিকা পশুর চেয়ে খারাপ 

ও নিকৃষ্ট ছিলো গত পনেরো বছর, 

একটি লেখা আমি পাইনি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ।


আর আজকে তারাই বিভিন্ন স্থানে সাহিত্য অনুষ্ঠান শুরু করেছে, নিজেদেরকে বিশিষ্ট সাহিত্য অনুরাগী ও সমাজ সেবক পরিচয় দিয়ে বেড়াচ্ছে। 


বর্তমান ছাত্র জনতার বিপ্লবী সরকারকে আরো সতর্ক ও সাবধান হতে হবে সবকিছুতে যাতে করে স্বৈরাচার হাসিনার দোসর সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবি, আমলা, সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক বা কোনো সাংস্কৃতিক কর্মী পরিচয় দিয়ে 

সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে না পারে। 


এরা নিজেদের পুর্ব পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে মিশে বর্তমান বিপ্লবী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। 

স্বৈরশাসক হাসিনার আমলের চৌকিদার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতিকেও নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে। 

পুলিশ প্রশাসন ঢেলে সাজাতে হবে, 

কাউকে নিয়োগ দেওয়ার আগে তার সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে। 

গত ১৫ বছর তার কী ভুমিকা ছিল তা জানতে হবে। 

আল্লাহ বিপ্লবী সরকারকে সাহায্য করুন। আমীন 

✍️ মোহাম্মদ মিজান

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?

 মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?  ইদানিং আমাদের দেশের একটা দল বা গুষ্টি মসজিদের ভিতরে আলোচনা করা নিয়ে খুব ধার্মিকতা দেখাচ্ছে,  অথচ রাসূল (সাঃ)-এর যুগে এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের উত্তম যুগে মসজিদে বসেই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আঞ্জাম দেওয়া হতো। ​মসজিদ, বিশেষ করে মসজিদে নববী, সেসময় শুধু নামাযের স্থান ছিল না। এটি ছিল মদিনা রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রাণকেন্দ্র। ​মসজিদে নববীর বহুমুখী ভূমিকা ​রাসূল (সাঃ)-এর সময় এবং পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে মসজিদ প্রধানত নিম্নলিখিত কাজগুলোর কেন্দ্র ছিল: ​রাষ্ট্রীয় কার্যনির্বাহী কেন্দ্র: খলিফারা মসজিদে বসেই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ সভা (শুরা) করতেন। এটি এক প্রকার কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের মতো কাজ করত। ​বিচার বিভাগীয় কেন্দ্র: মসজিদ ছিল ন্যায়বিচার ও সালিশের প্রধান স্থান। খলিফা বা নিয়োজিত বিচারকগণ এখানেই জনগণের অভিযোগ শুনতেন এবং বিচারকার্য সম্পন্ন করতেন। শিক্ষাকেন্দ্র: নতুন মুসলিমদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়া, কুরআন ও হাদিসের দারস প্রদান এবং জ্ঞানের চর্চার ...

তৃতীয় দৃষ্টি

 তৃতীয় দৃষ্টি  ----:---- খারাপ ছবি খারাপ ভিডিও খারাপ আমি জানি, গল্প কবিতায় খারাপ শব্দ খারাপ কজনে মানি? বেশ্যা শব্দ ভীষণ খারাপ বলবে সবাই নির্দ্বিধায়, সেই বেশ্যা পাড়ার মাটি দিয়ে দুর্গা মুর্তি তৈরী হয়। কাকে তুমি খারাপ বলবে খদ্দর নাকি পতিতা? তোমার চোখে খারাপ কে চিন্তা নাকি কল্পিতা?  লজ্জা তোমার কোথায় থাকে মনে নাকি চোখে?  কেন তোমার মনে কামনা জাগে শিশু খাদ্য দেখে?  প্রশ্ন করবে নিজেকে নিজে কি পরিবর্তন দরকার! চার এপাশের সমাজ ব্যবস্থা নাকি রাষ্ট্রের সরকার? --কুয়েত থেকে ১০ /০৫ /২০২৫