সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

গল্প :- সততা ২

 ছোট গল্প:- সততা

:- ​রাজ্যের সেরা ভোজ ও দুই ধরনের প্রহরী

​অনেক কাল আগের কথা। এক রাজার ছিল এক চমৎকার ভোজনশালা, যেখানে রাজ্যের সেরা সব খাবার তৈরি হতো। এই ভোজনশালার দায়িত্বে ছিল এক বিশ্বস্ত ও সৎ প্রহরীর দল। তাদের প্রধানের নাম ছিল প্রদীপ।

​ভোজনশালার নিয়ম ছিল খুব কঠোর: খাবার শুধুমাত্র তারাই পাবে যারা সঠিক মূল্য দেবে এবং যাদের সত্যিই প্রয়োজন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে কিছু লোক, যারা রাজার ঘনিষ্ঠ ছিল বা ক্ষমতা রাখত, তারা প্রদীপের কাছে এসে আবদার করত— "ভাই প্রদীপ, এই খাবারগুলো একটু বেশি দাও না, দাম কম রাখো না, কালকের জন্য কিছু সরিয়ে রাখো না।"

​প্রদীপ ছিল তার কাজে দৃঢ়। সে হেসে বলত, "বন্ধুরা, রাজার আদেশ, নিয়ম সবার জন্য সমান। এই ভোজনশালা রাজ্যের সবার জন্য, ব্যক্তিগত সুবিধার জায়গা নয়।"

​প্রদীপের এই সততা কিছু মানুষকে ক্ষুব্ধ করত। তারা প্রদীপের ওপর অসন্তুষ্ট হতো, খারাপ ব্যবহার করত এবং তাকে ছোট করার চেষ্টা করত।

​একদিন প্রদীপ বুঝতে পারল, তার পক্ষে এই পরিবেশে কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন। তার বিবেক তাকে সায় দিচ্ছিল না এমন একটি জায়গায় থাকতে, যেখানে প্রতিনিয়ত নিয়মের বরখেলাপ করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। সে জানত, যদি সে নিয়মের বাইরে না যায়, তাহলে তাকে আরও বেশি হয়রানি সহ্য করতে হবে।

​তাই একদিন প্রদীপ রাজার কাছে গিয়ে বলল, "মহারাজ, আমার মনে হয় এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য আমি উপযুক্ত নই। আমি অন্য কোনো কাজে যেতে চাই।" রাজা আশ্চর্য হলেন, কিন্তু প্রদীপের প্রতি তার বিশ্বাস ছিল, তাই তিনি তাকে অন্য একটি অপেক্ষাকৃত শান্ত জায়গায় পাঠালেন।

​প্রদীপ দায়িত্ব ছাড়তেই সেই ক্ষমতাশীল মানুষগুলো দ্রুত তাদের একজন পছন্দের লোককে, যার নাম ছিল ভূষণ, সেই ভোজনশালার প্রধানের পদে বসিয়ে দিল।

​ভূষণ দায়িত্ব নিতেই ভোজনশালার নিয়মগুলো পাল্টে যেতে শুরু করল। ক্ষমতাশীল মানুষগুলো অবাধে অতিরিক্ত খাবার পেতে লাগল, কম দামে, এমনকি কখনও কখনও বিনা মূল্যে। ভোজনশালার ভেতরের পরিবেশ বদলে গেল। বাইরে থেকে হয়তো সবই ঠিক দেখাচ্ছিল, কিন্তু রাজার কোষাগার বা সাধারণ মানুষের জন্য রাখা অংশের অনেক কিছু গোপনে অপচয় হতে লাগল—শুধুমাত্র কিছু লোকের অনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য।

​প্রদীপ দূর থেকে দেখত, ভোজনশালা এখনও চলছে, কিন্তু এর ভেতরের মূলনীতি আর নেই। তার জায়গায় আসা ভূষণ এবং অন্যদের পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সেই সুবিধাগুলো নিয়ে যাচ্ছে, যা সে কখনো দিতে পারেনি।

​গল্পটা এটাই বোঝায়, মহারাজ, ভোজনশালার পরিবেশ কেমন আছে, আর কেন একজন সৎ লোক সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছিল।

:---

বস বুদ্ধিমান হলে বুঝতে পারবে 

গল্পের মধ্যে কি বার্তা দেওয়া হয়েছে।

✍️ মোহাম্মদ মিজান

২৪/০৯/২০২৫

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সময়ের উক্তি : ✍️মোহাম্মদ মিজান

সময়ের উক্তি ((((লেখক✍️মোহাম্মদ মিজান)))) বিবস্ত্রকে নির্লজ্জ বললে কিবা যায় আসে ! যাঁকে দেখে লজ্জা শরম মিটমিটিয়ে হাসে! হিংসুটেরা মহা খুশি আজ মাজারে করবে ফুর্তি, তাড়িয়ে ছাড়ল কুরআন পাখি দিয়ে ভ্রান্ত যুক্তি । অন্ধের দেশে   কুরআন আয়না          বেচতে এলেন                   আজহারী,             গাঁজার কোলকি           হাতে নিয়ে    তাড়িয়ে ছাড়ল মাজারী। (মোহাম্মদ মিজান) কে মাজারী?কে বাজারি? চিনিয়ে দিল আজহারী, বুঝে গেছেন এ যুবসমাজ কুরআন বেশি দরকারি। (মোহাম্মদ মিজান) নর্তকী আর হরতকি কদিন থাকে শাখে? ভালো মানুষেরা এ তেল গায়ে কি আর মাখে? (((মোহাম্মদ মিজান))) ঝর্ড় বৃষ্টি কিছুই নেই তবু হুজুরের       জনপ্রিয়তার সংকট , বর্তমান যুবসমাজ সচেতন তাই        শুরু হয়েছে বয়কট। (((মোহাম্মদ মিজা...

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

যদি এমন হয়!!!

 যদি এমন হয়!!!  ✍️ মোহাম্মদ মিজান ............ 🇧🇩 ........  #আইচ্ছা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যার যদি বলেন চার বাহীনির প্রধান এখন থেকে আমি এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেই আমি এই পদ গুলো ছেড়ে দেব, তখন কি করবেন? #আগামী কাল ঘুম থেকে উঠে যদি শুনেন প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যার আওয়ামী লীগের নিয়োগ দেওয়া বিতর্কিত ব্যক্তি শাহাব উদ্দিন চুপ্পুকে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন! এবং তিনি ঘোষণা করেছেন যে আগামীতে যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে তারাই একজন যোগ্য লোককে নতুন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিবে সবার মতামতের ভিত্তিতে, তখন কারো কিছু করার থাকবে কী?  #আজকে কেন জানি আমার মনে হচ্ছে যদি নির্বাচন কমিশন এমন একটা আইন জারি করে যে আগামী নির্বাচনে যেই দল যে আসনে প্রার্থী ঘোষণা করবে সেখানে যদি ঐ দলেরই কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়ায় তবে ঐ দলের কেউ ঐ আসনে আর নির্বাচন করতে পারবে না, দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন এমন আইন করতেই পারে তখন দল গুলোর অবস্থা কেমন হবে?  #সর্ব শেষ একটা কথা বলি - য...