সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কবিতা : মিঃ আনিস সাহেব

 কবিতা : মিঃ আনিস সাহেব

----:----

আমি যা দেখেছি আপনি কি তা দেখেছেন? 

আমি দেখেছি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাতান্ন জন অফিসারকে নির্মম ভাবে খুন হতে। 

আমি দেখেছি দিনের ভোট রাতে হতে!

আমি শুনেছি মরা মানুষ ভোট দিয়েছে সে রাতে। 

আমি দেখেছি সুখরঞ্জন বালি আদালত চত্বর থেকে দিনদুপুরে গুম হতে। 

আমি দেখেছি স্কাইপি কেলেঙ্কারির পর ও

অনেক নিরপরাধ মানুষকে ফাঁসিতেঝুলতে।

আমি দেখেছি সাগর রুনি খুন হতে। 

আমি দেখেছি তনু, মিতু, রাজন ,বিশ্ব জিৎ, 

অভিজিৎ, নুশরাত সহ অসংখ্য মানুষ খুন হতে। 

আমি দেখেছি চার সন্তানের জননীকে ধর্ষণ হতে।

আমি দেখেছি মা মেয়েকে ধর্ষণ করে মাথা ন্যাড়া করে দিতে।

আমি দেখেছি বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদেকে হত্যা করতে।

আমি দেখেছি মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদকে হত্যা করতে। 

আমি দেখেছি এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে কেড়ে নিয়ে ধর্ষণ করতে।

আমি দেখেছি কোটি কোটি টাকা পাচার হতে।

আমি দেখেছি বালিশ পর্দা টিনের দাম কয়েক লক্ষ টাকা হতে।

আমি দেখেছি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হতে।

আমি দেখেছি রোবট সুফিয়ার আগমন দেখিয়ে কয়েক হাজার কোটি টাকা লুটপাট হতে। 

আমি দেখেছি পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যায়ায় একশত গুণ ছাড়িয়ে যেতে। 

আমি দেখেছি তকি হত্যা। 

আমি দেখেছি নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন।

আমি দেখেছি রানা প্লাজার রেশমা নাটকের শুটিং ।

আমি দেখেছি দলীয় বিবেচনায় ফাঁসির আসামিদের প্রাণভিক্ষা। 

আমি দেখেছি প্রশ্ন পত্র ফাঁস আর নকল উৎসবের পরীক্ষা। 

আমি দেখেছি ক্যাসিনো শামীম সম্রাট খালেদ পাপিয়া শাহেদ পাপলুর অপকর্ম। 

আমি দেখেছি নুরুল হক নুরুকে বার বার মার খেতে। 

আমি দেখেছি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের কালো বিড়াল। 

আমি দেখেছি রড়ের জায়গায় বাঁশ দিয়ে অর্থ আত্মসাত করতে।

আমি দেখেছি - দেখছি শত শত কুরআনের মাহফিল বন্ধ হতে। 

আমি দেখেছি পেঁয়াজের দাম দুই শত টাকা হতে।

আমি দেখেছি করোনার সার্টিফিকেট নকল হতে।

আমি দেখেছি ভ্যাকসিন দুর্নীতি। 

আমি দেখেছি এবং দেখছি একজন উপদেষ্টার বেতন এক কোটি ষাট লক্ষ টাকার অধিক হতে।

আমি দেখেছি কোটা সংস্কার আন্দোলনে হেমল্যাট বাহিনীর আক্রমণ।

আমি দেখেছি ছাত্র আন্দোলনে রক্তাক্ত ছাত্র ছাত্রীদের লাশ। 

আমি দেখেছি মাটির নিচে চাউলের খনি আর খাটের তলা তেলের খনি।

যা আপনি দেখেননি। 

আমি দেখেছি সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান, শাহেদ আলম, মান্না সহ কত শত সাংবাদিক নির্যাতন।   

আমি দেখেছি বিনা দোষে আলেম ওলামা গ্রেফতার হতে।

আমি দেখেছি কবিতা লেখার অপরাধে কবির বাড়ি ঘর লুট হতে।

আমি আরো অনেক কিছু দেখেছি এবং দেখছি প্রতিনিয়ত- যা আপনি দেখেন না। 


কারণ আপনাদের চোখ কান ও বিবেক স্বার্থের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে। 

যা আমি করিনি----- 

মি: আনিস সাহেব। 

মোহাম্মদ মিজান

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তৃণমূলের এই দূর্দশা

 তৃণমূলের এই দূর্দশা লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  -----:----- দিনের বেলায় জিয়ার সৈনিক রাতের বেলায় গরু চোর, দলের পদ-পদবীতেও আছে  এই সমস্ত গাঁজাখোর। সেল্ফি তুলে নেতার সাথে দেখায় জনে জনে, গাও গ্রামের সাধারণ মানুষ তাকেও নেতা মানে। আসলে এরা সুবিধাভোগী ক্ষমতা লোভী চরম, আদপ লেহাজ মোটেও নাই নাই লজ্জা শরম । এরাই সমাজের বিষফোঁড়া দল ও জাতির কলঙ্ক,  তবুও কেনো এরা দলে আছে বুঝলাম না এই অংক!  দলীয় হাইকমান্ড কি দেখে না তৃণমূলের এই দূর্দশা,  দিনে দিনে বিএনপির উপর থেকে  উঠে যাচ্ছে ভরসা।  -----:---- কুয়েত থেকে  ০৭ /১০ /২০২৫ 

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  :::::---::::: ​সময়ের পিঠে চড়ে যৌবন যখন শেষের স্টেশনে থামে, তখন মানুষ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হারানো দিনগুলো খোঁজে। যে নারী আজ শেষ বয়সে খিটখিটে মেজাজে স্বামীর প্রতি বিরক্তি ঝাড়ে, লোকে হয়তো তাকে 'অলক্ষ্মী' বলে গালি দেয়— কিন্তু কেউ তার সেই পুরনো ক্ষতগুলো খুলে দেখার চেষ্টা করে না। ​আসলে, শেষ বয়সে এসে এই অযাচিত অভিযোগগুলো হুট করে জন্ম নেয়নি তার মাঝে। এগুলো সেই বিষাক্ত অবহেলার ফল— যা তিনি পেয়েছিলেন তার পূর্ণ রূপবতী যৌবনের দিনগুলোতে। যখন তার একটু ভালোবাসার তৃষ্ণা ছিল আকাশচুম্বী, তখন তাকে দেয়া হয়েছিল নিদারুণ অবজ্ঞা আর একাকীত্বের বিষ। ​হয়তো সেদিন তার অভিমানগুলো কোনো এক অন্ধকার কোণে ডুকরে কেঁদেছিল, কিন্তু আজ সেই কান্নাই কণ্ঠে ধারালো ভাষা হয়ে ফিরে এসেছে। ​অথচ বাস্তবতা বড় সহজ হতে পারত— যদি যৌবনের সেই উত্তাল সময়ে স্ত্রীর হাতের তালুতে একটু যত্নের ছোঁয়া থাকত, যদি ক্লান্ত বিকেলে এক গ্লাস জলের সাথে উপহার দেয়া হতো সামান্য কৃতজ্ঞতা, তবে শেষ বয়সের এই ধূসর গোধূলি বেলাতে— সেই নারীই হতেন পরম নির্ভরতার এক শীতল বৃক্ষ। ​যৌবনে স্ত্রীকে ...

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কবিতা 👉 অন্য বসন্তের গান

 অন্য বসন্তের গান লেখক ✍️ —মোহাম্মদ মিজান  সবাই যখন জেনেশুনে নির্দিষ্ট ছকে জীবনের নাম লেখে— বাবা কিংবা মা, ভাই কিংবা বোন— তখন জন্মেই কারো গায়ে সেঁটে যায় 'উপেক্ষা'র এক নিষ্ঠুর লেবেল। প্রকৃতি তাকে এঁকেছিল অন্য কোনো রঙের তুলিতে— কোমল, বিরল, অপূর্ব এক আলোয়। অথচ পৃথিবীর ব্যাকরণ তাকে চিনতেই ভুলে গেল। আয়নার সামনে দাঁড়ালে কোনো বিভাজন চোখে পড়ে না তাদের— শুধু থাকে এক জোড়া তৃষ্ণার্ত চোখ, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, ডানা মেলার গভীর আকুতি। কিন্তু রাজপথে যখন তারা নামে, মানুষের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিগুলো তলোয়ারের মতো বিঁধতে থাকে বুকের ঠিক মাঝখানে। প্রতিটি পদক্ষেপ হয়ে ওঠে একটি নীরব যুদ্ধ। তালি বাজানো সেই হাতগুলোর আড়ালে কত যে না-বলা হাহাকার জমে আছে— তার হিসেব কেউ কোনোদিন রাখেনি। তারাও তো চেয়েছিল কোনো এক দপ্তরে কলম ধরতে, বইয়ের পাতায় নিজের নাম লিখতে। চেয়েছিল প্রিয়জনের উষ্ণ হাত ধরে গোধূলির আলোয় নিভৃতে কথা বলতে। অথচ সমাজ তাদের শিখিয়ে দিল— বেঁচে থাকা মানে টিটকিরি আর করুণার মিশেলে এক অন্তহীন, ক্লান্তিকর যুদ্ধ। মাঝরাতে যখন দূর থেকে ট্রেনের বাঁশি ভেসে আসে, কিংবা নির্জন বস্তির ক...