সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

জামায়াত বিএনপি ভাই ভাই পালক ভাইয়ের ঠাই নাই

 জামায়াত বিএনপি ভাই ভাই,পালক ভাইয়ের ঠাই নাই:-

​দেশের রাজনীতিতে পুরনো প্রেম আর নতুন দহনের গল্প নতুন নয়। সম্প্রতি বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে যে সংঘাতময় বাতাবরণ তৈরি হয়েছে, তা দেখে অনেকেরই চোখ কপালে। কারণ, 'জামায়াত-বিএনপি ভাই ভাই'—এই আপ্তবাক্যটি তো আর আজকের নয়, বহু বছরের রাজনৈতিক গাঁটছড়া! কিন্তু সেই ভাইয়ের সম্পর্কে এখন চিড় ধরিয়েছে নতুন এক 'পালক ভাই'য়ের আবির্ভাব।
​এই 'পালক ভাই' বলতে আমি তাদের কথাই বলছি, যারা একদা নৌকা বাওয়া শিখেছিল, কিন্তু পটপরিবর্তনের হাওয়ায় এখন ধানের শীষের যাত্রী। এরা মূলত আওয়ামী লীগ থেকে আসা সেই উগ্র ও হঠকারী নেতৃত্ব, যারা নিজেদের পুরনো অভ্যাস ভুলতে পারেনি। তাদের রক্তে মিশে আছে দাঙ্গা লাগানো আর নিজের প্রভাব খাটিয়ে সব কিছুতে মাতব্বরি করার প্রবণতা।
​আজকাল বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে যেখানেই সংঘর্ষের খবর আসছে, সেখানেই মূল সমস্যাটা তৈরি করছে এই 'পালক ভাই' গোষ্ঠী। তারা মনে করে, দল পরিবর্তন হয়েছে তো কী হয়েছে, মাঠের রাজনীতিতে শক্তি দেখাতে হবে! তাই একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র জামায়াত বা শিবিরের নেতারা যখন নিজেদের মতো করে ধর্মীয় বা শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান করতে যায়, এই 'নব্য বিএনপি' বা 'পালক ভাই'রা সেখানে নিজেদের উগ্রতা জাহির করে। কোরআন শিক্ষার মতো শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানে হামলা করা বা বিনা কারণে সংঘাত সৃষ্টি করা—এসবই সেই পুরনো মানসিকতার ফসল, যা আওয়ামী লীগের মাঠের রাজনীতিতে ছিল খুব পরিচিত।
​দীর্ঘদিন ধরে জামায়াত-বিএনপি আদর্শিক ও কৌশলগত দিক থেকে একে অপরের পাশে ছিল। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক বোঝাপড়া ছিল গভীর। কিন্তু এই 'পালক ভাই'দের বেপরোয়া আচরণ সেই পুরনো সেতুবন্ধনকে নড়বড়ে করে দিচ্ছে।
​বিএনপির পুরনো ও আদর্শবাদী নেতারা হয়তো দেখছেন, তাদের দলে এখন এমন কিছু লোক ঢুকে পড়েছে, যারা শুধু ক্ষমতা আর দাঙ্গাই বোঝে। তাদের জন্য না আছে রাজনৈতিক শিষ্টাচার, আর না আছে দলের পুরনো মিত্রের প্রতি সম্মান। জামায়াত নেতারাও ভাবছেন, বন্ধুত্বের খাতিরে এতদিন যাদের পাশে ছিলাম, তাদের ভেতরেই এখন শত্রু জন্ম নিচ্ছে।
​তাই পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, বিএনপি-জামায়াতের দীর্ঘদিনের 'ভাই ভাই' সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে, দল দুটির মধ্যে এখন নতুন করে হিসেব কষতে হবে। বিশেষ করে, যে 'পালক ভাই'য়েরা তাদের পুরনো উগ্র সংস্কৃতি নিয়ে নতুন দলে ঢুকে পড়েছে, তাদের রাশ টেনে ধরা না গেলে, এই সংঘাত শুধু বাড়তেই থাকবে। রাজনীতিতে হয়তো 'পালক ভাই'কে ঠাঁই দেওয়া যায়, কিন্তু উগ্রতাকে নয়। আর এই উগ্রতা দূর না হলে, পুরনো ভাই-ভাই সম্পর্ক আর মজবুত হবে না।
​সারকথা হলো: এই নব্য-নেতৃত্ব বা 'পালক ভাই'রাই মূলত বিএনপির ঘরের শত্রু বিভীষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যারা পুরনো মিত্রের সঙ্গে নতুন করে দাঙ্গা বাধিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও জটিল করে তুলছে।
আর এই পালক ভাইদের পরিকল্পত ফাঁদে পা দিয়েছে বিএনপির কিছু মূর্খ নেতা কর্মী, আওয়ামী লীগ কতটা ভয়ংকর তা এতো সহজে বিএনপির নেতা কর্মীদের ভুলে যাওয়া আমাকে অবাক করেছে।
আমি জামায়াত শিবিরকে যতটা চিনি তাতে মনে হচ্ছে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা বিএনপির মূর্খ নেতাদের মতো ভুল করবেন না, জামায়াত শিবিরের কর্মীদের সংঘাতে জড়াতে অনুমতি দিবেন না।
স্বৈরাচারের দোসরেরা দেশের ভিতরে একটা বড় ধরনের দাঙ্গা লাগাতে চাইছে, সবাই সাবধানে থাকবেন কারো উস্কানিতে নিজেদের মধ্যে ঝামেলা করবেন না প্লিজ ।
:-
✍️ এআই মোহাম্মদ মিজান
কুয়েত থেকে
২১ /১০ /২০২৫

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সময়ের উক্তি : ✍️মোহাম্মদ মিজান

সময়ের উক্তি ((((লেখক✍️মোহাম্মদ মিজান)))) বিবস্ত্রকে নির্লজ্জ বললে কিবা যায় আসে ! যাঁকে দেখে লজ্জা শরম মিটমিটিয়ে হাসে! হিংসুটেরা মহা খুশি আজ মাজারে করবে ফুর্তি, তাড়িয়ে ছাড়ল কুরআন পাখি দিয়ে ভ্রান্ত যুক্তি । অন্ধের দেশে   কুরআন আয়না          বেচতে এলেন                   আজহারী,             গাঁজার কোলকি           হাতে নিয়ে    তাড়িয়ে ছাড়ল মাজারী। (মোহাম্মদ মিজান) কে মাজারী?কে বাজারি? চিনিয়ে দিল আজহারী, বুঝে গেছেন এ যুবসমাজ কুরআন বেশি দরকারি। (মোহাম্মদ মিজান) নর্তকী আর হরতকি কদিন থাকে শাখে? ভালো মানুষেরা এ তেল গায়ে কি আর মাখে? (((মোহাম্মদ মিজান))) ঝর্ড় বৃষ্টি কিছুই নেই তবু হুজুরের       জনপ্রিয়তার সংকট , বর্তমান যুবসমাজ সচেতন তাই        শুরু হয়েছে বয়কট। (((মোহাম্মদ মিজা...

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

যদি এমন হয়!!!

 যদি এমন হয়!!!  ✍️ মোহাম্মদ মিজান ............ 🇧🇩 ........  #আইচ্ছা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যার যদি বলেন চার বাহীনির প্রধান এখন থেকে আমি এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেই আমি এই পদ গুলো ছেড়ে দেব, তখন কি করবেন? #আগামী কাল ঘুম থেকে উঠে যদি শুনেন প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যার আওয়ামী লীগের নিয়োগ দেওয়া বিতর্কিত ব্যক্তি শাহাব উদ্দিন চুপ্পুকে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন! এবং তিনি ঘোষণা করেছেন যে আগামীতে যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে তারাই একজন যোগ্য লোককে নতুন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিবে সবার মতামতের ভিত্তিতে, তখন কারো কিছু করার থাকবে কী?  #আজকে কেন জানি আমার মনে হচ্ছে যদি নির্বাচন কমিশন এমন একটা আইন জারি করে যে আগামী নির্বাচনে যেই দল যে আসনে প্রার্থী ঘোষণা করবে সেখানে যদি ঐ দলেরই কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়ায় তবে ঐ দলের কেউ ঐ আসনে আর নির্বাচন করতে পারবে না, দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন এমন আইন করতেই পারে তখন দল গুলোর অবস্থা কেমন হবে?  #সর্ব শেষ একটা কথা বলি - য...