সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

​নির্বাচনে আমানত ও নৈতিকতার গুরুত্ব: ভোটারদের প্রতি একটি খোলা চিঠি ​

​নির্বাচনে আমানত ও নৈতিকতার গুরুত্ব: ভোটারদের প্রতি একটি খোলা চিঠি

​ভূমিকা

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একজন নাগরিকের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার 'ভোট'। এটি কেবল একটি সিল বা স্বাক্ষর নয়, বরং একটি পবিত্র আমানত। আগামী দিনে আপনার এবং আপনার সন্তানদের ভবিষ্যৎ কার হাতে তুলে দিচ্ছেন, তা ভাবার সময় এখনই। এই প্রেক্ষিতে কুয়েত প্রবাসী ভাই মোহাম্মদ মিজান দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী বার্তা দিয়েছেন।

​প্রার্থীর যোগ্যতা ও শপথের গুরুত্ব

​আমরা প্রায়ই অভিযোগ করি যে নির্বাচনের পর জনপ্রতিনিধিরা বদলে যান। কিন্তু আমরা কি তাদের নির্বাচনের আগেই সঠিক মাপকাঠিতে যাচাই করেছি? মিজানের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, আমাদের উচিত প্রার্থীদের নৈতিকতার সর্বোচ্চ জায়গায় প্রশ্ন করা।

​ধর্মীয় মূল্যবোধের যাচাই: কেউ ভোট চাইতে এলে তাকে জিজ্ঞেস করুন তার আধ্যাত্মিক শুদ্ধতা নিয়ে। যে ব্যক্তি নিজের স্রষ্টার কাছে দিনের শুরুতে হাজিরা দিতে পারেন না, তিনি জনগণের আমানত রক্ষায় কতটুকু নিষ্ঠাবান হবেন?

​অঙ্গীকারনামা: প্রার্থী যার পক্ষেই ভোট চাইতে আসুক না কেন, তাকে স্পষ্ট বলতে হবে যে তার নেতা বা তিনি নিজে দুর্নীতি, অর্থপাচার, চাঁদাবাজি এবং টেন্ডারবাজির মতো জঘন্য কাজে লিপ্ত হবেন না।

​গরিবের হক ও ন্যায়বিচার: রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ না করার এবং সমাজে ইনসাফ কায়েমের শপথ যদি কেউ পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে জনসম্মুখে দিতে পারে, তবেই তাকে বিবেচনার সুযোগ রাখা যেতে পারে।

​কেন এই কঠোর অবস্থান?

​অনেকে মনে করতে পারেন এটি হয়তো একটু কঠিন নিয়ম। কিন্তু মনে রাখবেন:

​জবাবদিহিতা: যদি কোনো প্রার্থী শপথ করার পর ওয়াদা ভঙ্গ করেন, তবে হাশরের ময়দানে ভোটার হিসেবে আপনি দায়মুক্ত থাকবেন। কারণ আপনি সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সাথে তাকে যাচাই করেছিলেন।

​নৈতিক চাপ: যখন একজন প্রার্থী জানবেন যে তাকে পবিত্র ধর্মগ্রন্থের সামনে দাঁড়িয়ে কথা দিতে হবে, তখন অসৎ ব্যক্তিরা প্রার্থী হতে ভয় পাবে এবং সৎ সাহসীরাই সামনে আসবে।

​উপসংহার

​দেশের উন্নয়নের জন্য শুধু রাস্তাঘাট বা ব্রিজ যথেষ্ঠ নয়, প্রয়োজন সৎ নেতৃত্বের। আমরা যদি আজ সজাগ না হই, তবে কাল আমাদের পস্তাতে হবে। তাই আসুন, আবেগের বশে বা সামান্য লোভে পড়ে নয়, বরং প্রার্থীর চরিত্র এবং আল্লাহর প্রতি তার আনুগত্য দেখে সিদ্ধান্ত নিই।

​"আপনার একটি ভোট একটি সাক্ষ্য। আর মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া ইসলামে কবিরা গুনাহ।"

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করুন- আমিন

✍️ আল #মোহাম্মদ_মিজান

কুয়েত থেকে  

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সময়ের উক্তি : ✍️মোহাম্মদ মিজান

সময়ের উক্তি ((((লেখক✍️মোহাম্মদ মিজান)))) বিবস্ত্রকে নির্লজ্জ বললে কিবা যায় আসে ! যাঁকে দেখে লজ্জা শরম মিটমিটিয়ে হাসে! হিংসুটেরা মহা খুশি আজ মাজারে করবে ফুর্তি, তাড়িয়ে ছাড়ল কুরআন পাখি দিয়ে ভ্রান্ত যুক্তি । অন্ধের দেশে   কুরআন আয়না          বেচতে এলেন                   আজহারী,             গাঁজার কোলকি           হাতে নিয়ে    তাড়িয়ে ছাড়ল মাজারী। (মোহাম্মদ মিজান) কে মাজারী?কে বাজারি? চিনিয়ে দিল আজহারী, বুঝে গেছেন এ যুবসমাজ কুরআন বেশি দরকারি। (মোহাম্মদ মিজান) নর্তকী আর হরতকি কদিন থাকে শাখে? ভালো মানুষেরা এ তেল গায়ে কি আর মাখে? (((মোহাম্মদ মিজান))) ঝর্ড় বৃষ্টি কিছুই নেই তবু হুজুরের       জনপ্রিয়তার সংকট , বর্তমান যুবসমাজ সচেতন তাই        শুরু হয়েছে বয়কট। (((মোহাম্মদ মিজা...

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

যদি এমন হয়!!!

 যদি এমন হয়!!!  ✍️ মোহাম্মদ মিজান ............ 🇧🇩 ........  #আইচ্ছা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যার যদি বলেন চার বাহীনির প্রধান এখন থেকে আমি এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেই আমি এই পদ গুলো ছেড়ে দেব, তখন কি করবেন? #আগামী কাল ঘুম থেকে উঠে যদি শুনেন প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যার আওয়ামী লীগের নিয়োগ দেওয়া বিতর্কিত ব্যক্তি শাহাব উদ্দিন চুপ্পুকে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন! এবং তিনি ঘোষণা করেছেন যে আগামীতে যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে তারাই একজন যোগ্য লোককে নতুন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিবে সবার মতামতের ভিত্তিতে, তখন কারো কিছু করার থাকবে কী?  #আজকে কেন জানি আমার মনে হচ্ছে যদি নির্বাচন কমিশন এমন একটা আইন জারি করে যে আগামী নির্বাচনে যেই দল যে আসনে প্রার্থী ঘোষণা করবে সেখানে যদি ঐ দলেরই কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়ায় তবে ঐ দলের কেউ ঐ আসনে আর নির্বাচন করতে পারবে না, দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন এমন আইন করতেই পারে তখন দল গুলোর অবস্থা কেমন হবে?  #সর্ব শেষ একটা কথা বলি - য...