সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মায়াবী পর্দার নীল বিষাদ

 মায়াবী পর্দার নীল বিষাদ

লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান 

:-

​আলোর এক অদ্ভুত নেশা আজ আমাদের হাতের মুঠোয় আটকে আছে,

যার নাম স্মার্টফোন।

সবাই বলি সংযোগের সেতু, অথচ এই সেতু আমাদের নিয়ে যাচ্ছে এক গভীর নির্জনতায়।

মিষ্টি ঘুমের স্বপ্নগুলো এখন চারকোনা স্ক্রিনের নীল আলোয় ফিকে হয়ে আসে,

ভোরের পাখিদের ডাক শোনার আগেই আমাদের চোখে জ্বলে ওঠে নোটিফিকেশনের ডিজিটাল আগুন।

​উপকারের ঝুলি ভরে আমরা যখন এই যান্ত্রিক সখ্যের কাছে হাত পাতি,

তখন অলক্ষ্যেই খসে পড়ে আমাদের চোখের জ্যোতি, হারিয়ে যায় একাগ্রতা।

স্মার্টফোন যেন এক জাদুর আয়না—

যেখানে পড়াশোনার টেবিলটা হয়ে যায় এক কাল্পনিক যুদ্ধের ময়দান,

আর বইয়ের পাতাগুলো পড়ে থাকে ধুলোমাখা অনাদরে।

​একই ছাদের নিচে থেকেও আজ আমরা যোজন যোজন দূরে।

যেখানে ভালোবাসার কথা হওয়ার কথা ছিল, সেখানে আজ টুংটাং শব্দের আধিপত্য।

পারিবারিক বন্ধনের সুতো ছিঁড়ে যাচ্ছে ভার্চুয়াল আকর্ষণে,

পতি-পত্নীর মান-অভিমানে আজ তৃতীয় পক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে এক যান্ত্রিক প্রলোভন।

​যুবকের অদম্য প্রাণশক্তি আজ স্থির হয়ে গেছে শুধু আঙুলের নাড়াচাড়ায়,

আর লাজ-লজ্জার সেই পুরোনো মূর্তিও ভেঙে খানখান হচ্ছে পর্দার ওপারে।

প্রোফাইল পিকচারের রঙিন হাসিতে নিজেকে চেনা যায় না,

মানুষের আসল রূপ ঢাকা পড়ে যায় ফিল্টারের আড়ালে।

​আসলে আমরা মন নিয়ে খেলার এক সস্তা সরঞ্জাম বেছে নিয়েছি;

যেখানে ভালো মন্দের ফারাক করা আজ বড্ড কঠিন।

স্মার্টফোন আমাদের বিশ্বকে কাছে এনেছে ঠিকই,

কিন্তু মানুষের থেকে মানুষকে করে দিয়েছে আলোকবর্ষ দূরে।

এই দূরত্ব থেকে মুক্তির উপায় কি নেই?

যদি থাকে তবে তা কিভাবে?

—কুয়েত থেকে —

০৭/০৫/২০২৬ 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?

 মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?  ইদানিং আমাদের দেশের একটা দল বা গুষ্টি মসজিদের ভিতরে আলোচনা করা নিয়ে খুব ধার্মিকতা দেখাচ্ছে,  অথচ রাসূল (সাঃ)-এর যুগে এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের উত্তম যুগে মসজিদে বসেই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আঞ্জাম দেওয়া হতো। ​মসজিদ, বিশেষ করে মসজিদে নববী, সেসময় শুধু নামাযের স্থান ছিল না। এটি ছিল মদিনা রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রাণকেন্দ্র। ​মসজিদে নববীর বহুমুখী ভূমিকা ​রাসূল (সাঃ)-এর সময় এবং পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে মসজিদ প্রধানত নিম্নলিখিত কাজগুলোর কেন্দ্র ছিল: ​রাষ্ট্রীয় কার্যনির্বাহী কেন্দ্র: খলিফারা মসজিদে বসেই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ সভা (শুরা) করতেন। এটি এক প্রকার কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের মতো কাজ করত। ​বিচার বিভাগীয় কেন্দ্র: মসজিদ ছিল ন্যায়বিচার ও সালিশের প্রধান স্থান। খলিফা বা নিয়োজিত বিচারকগণ এখানেই জনগণের অভিযোগ শুনতেন এবং বিচারকার্য সম্পন্ন করতেন। শিক্ষাকেন্দ্র: নতুন মুসলিমদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়া, কুরআন ও হাদিসের দারস প্রদান এবং জ্ঞানের চর্চার ...

তৃতীয় দৃষ্টি

 তৃতীয় দৃষ্টি  ----:---- খারাপ ছবি খারাপ ভিডিও খারাপ আমি জানি, গল্প কবিতায় খারাপ শব্দ খারাপ কজনে মানি? বেশ্যা শব্দ ভীষণ খারাপ বলবে সবাই নির্দ্বিধায়, সেই বেশ্যা পাড়ার মাটি দিয়ে দুর্গা মুর্তি তৈরী হয়। কাকে তুমি খারাপ বলবে খদ্দর নাকি পতিতা? তোমার চোখে খারাপ কে চিন্তা নাকি কল্পিতা?  লজ্জা তোমার কোথায় থাকে মনে নাকি চোখে?  কেন তোমার মনে কামনা জাগে শিশু খাদ্য দেখে?  প্রশ্ন করবে নিজেকে নিজে কি পরিবর্তন দরকার! চার এপাশের সমাজ ব্যবস্থা নাকি রাষ্ট্রের সরকার? --কুয়েত থেকে ১০ /০৫ /২০২৫