কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি
লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান
:::::---:::::
সময়ের পিঠে চড়ে যৌবন যখন শেষের স্টেশনে থামে,
তখন মানুষ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হারানো দিনগুলো খোঁজে।
যে নারী আজ শেষ বয়সে খিটখিটে মেজাজে স্বামীর প্রতি বিরক্তি ঝাড়ে,
লোকে হয়তো তাকে 'অলক্ষ্মী' বলে গালি দেয়—
কিন্তু কেউ তার সেই পুরনো ক্ষতগুলো খুলে দেখার চেষ্টা করে না।
আসলে, শেষ বয়সে এসে এই অযাচিত অভিযোগগুলো হুট করে জন্ম নেয়নি তার মাঝে।
এগুলো সেই বিষাক্ত অবহেলার ফল—
যা তিনি পেয়েছিলেন তার পূর্ণ রূপবতী যৌবনের দিনগুলোতে।
যখন তার একটু ভালোবাসার তৃষ্ণা ছিল আকাশচুম্বী,
তখন তাকে দেয়া হয়েছিল নিদারুণ অবজ্ঞা আর একাকীত্বের বিষ।
হয়তো সেদিন তার অভিমানগুলো কোনো এক অন্ধকার কোণে ডুকরে কেঁদেছিল,
কিন্তু আজ সেই কান্নাই কণ্ঠে ধারালো ভাষা হয়ে ফিরে এসেছে।
অথচ বাস্তবতা বড় সহজ হতে পারত—
যদি যৌবনের সেই উত্তাল সময়ে স্ত্রীর হাতের তালুতে একটু যত্নের ছোঁয়া থাকত,
যদি ক্লান্ত বিকেলে এক গ্লাস জলের সাথে উপহার দেয়া হতো সামান্য কৃতজ্ঞতা,
তবে শেষ বয়সের এই ধূসর গোধূলি বেলাতে—
সেই নারীই হতেন পরম নির্ভরতার এক শীতল বৃক্ষ।
যৌবনে স্ত্রীকে আগলে রাখা মানে হচ্ছে —
বার্ধক্যের জন্য একটি শান্তির নীড় বুনে রাখা।
সেদিন যে যত্নে তাকে আপন করে নেয়া হবে,
শেষ বেলায় সেই যত্নই ফিরে আসবে দ্বিগুণ হয়ে;
ঠিক প্রথম প্রণয়ের দিনের সেই লাজুক হাসির মতো,
তিনি আপনাকে আগলে রাখবেন আমৃত্যু পরম মমতায় না যত্নে ।
----:----
কুয়েত থেকে
১৩/০৫/২০২৬
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন