সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ঢাকার রাস্তায় কেকের মেলা

 ঢাকার রাস্তায় কেকের মেলা

----:----

আগার গাঁওয়ের রাস্তায় রাস্তায় বসেছে কেকের পসরা, 

জ্যাম লাগিয়ে কত গাড়ি থামিয়ে 

কিনছে অফিসের বসরা।


​বৃষ্টিভেজা বিকেল থেকে শুরু 

বেছা বিক্রি রাতদুপুর, 

কেকের ব্যাবসা ভালোই চলে

আমাদের টিকিট আপুর ।


ফুটপাত তবুও মানুষের ভিড়, 

চেনা অচেনা আনাগোনা ,

এইতো এখানে সেদিন ওতো 

মানুষ ছিলো হাতে গোনা। 


ঢাকা শহরের ​রাস্তার কিনারে, 

কি ঝমঝমাট আহারে! 

যেনো সেজেছে রঙিন মেলা

নানান কেকের বাহারে।


নয় কোনো পতুল বা খেলনা 

এযে হাতের কাজের হাট,

ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের কেকের পসরা

দেখো নারীরা কত স্মার্ট ।


​এ কেমন চিত্র! 

এ কেমন বাহার!

ছোট ছোট টেবিলে সাজানো যে আহার।


দামী গাড়ির পাশাপাশি ভ্যানগাড়ি 

শুধু চোখে পড়ে নানা কেক, 

বন্ধু আমার জোর করেই আমাকে

খাওয়ালো একটার অর্ধেক। 


​যেন এক মিষ্টি জাদু করেছে বিস্তার,

ডিমের সুবাসে ভরে গেছে চারিধার।


বিশ্ব সেরা রকমারি কেক সব

ক্রিম ভ্যানিলা, চকলেট,

কেক নয়, যেন সব এক-একটা

উড়ন্ত টাকার প্যালেট।


আইস​ক্রিম আর চেরির সজ্জা 

রঙিন আলো চোখ ঝলমল,

তুলনা মূলক কম দামেই বিক্রি 

তবু মধ্যবিত্তের চোখ চঞ্চল।


পাউরুটি আছে, আছে বিস্কুট আরো,

এ এক অন্য বিকালে মন ভরে কারো।

​শীতের আগমনে এই কেকের উৎসব,

পেটের ও মনের ক্ষুধা মেটায় নীরব।


গরিবের ঘরেও যেন আনন্দ দেয় ভরে,

দেখে এলাম আগার গাঁওয়ের এই পসরা টোরে।

-------:----

✍️ মোহাম্মদ মিজান

কুয়েত থেকে

০৪/১০/২০২৫ 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?

 মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?  ইদানিং আমাদের দেশের একটা দল বা গুষ্টি মসজিদের ভিতরে আলোচনা করা নিয়ে খুব ধার্মিকতা দেখাচ্ছে,  অথচ রাসূল (সাঃ)-এর যুগে এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের উত্তম যুগে মসজিদে বসেই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আঞ্জাম দেওয়া হতো। ​মসজিদ, বিশেষ করে মসজিদে নববী, সেসময় শুধু নামাযের স্থান ছিল না। এটি ছিল মদিনা রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রাণকেন্দ্র। ​মসজিদে নববীর বহুমুখী ভূমিকা ​রাসূল (সাঃ)-এর সময় এবং পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে মসজিদ প্রধানত নিম্নলিখিত কাজগুলোর কেন্দ্র ছিল: ​রাষ্ট্রীয় কার্যনির্বাহী কেন্দ্র: খলিফারা মসজিদে বসেই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ সভা (শুরা) করতেন। এটি এক প্রকার কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের মতো কাজ করত। ​বিচার বিভাগীয় কেন্দ্র: মসজিদ ছিল ন্যায়বিচার ও সালিশের প্রধান স্থান। খলিফা বা নিয়োজিত বিচারকগণ এখানেই জনগণের অভিযোগ শুনতেন এবং বিচারকার্য সম্পন্ন করতেন। শিক্ষাকেন্দ্র: নতুন মুসলিমদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়া, কুরআন ও হাদিসের দারস প্রদান এবং জ্ঞানের চর্চার ...

তৃতীয় দৃষ্টি

 তৃতীয় দৃষ্টি  ----:---- খারাপ ছবি খারাপ ভিডিও খারাপ আমি জানি, গল্প কবিতায় খারাপ শব্দ খারাপ কজনে মানি? বেশ্যা শব্দ ভীষণ খারাপ বলবে সবাই নির্দ্বিধায়, সেই বেশ্যা পাড়ার মাটি দিয়ে দুর্গা মুর্তি তৈরী হয়। কাকে তুমি খারাপ বলবে খদ্দর নাকি পতিতা? তোমার চোখে খারাপ কে চিন্তা নাকি কল্পিতা?  লজ্জা তোমার কোথায় থাকে মনে নাকি চোখে?  কেন তোমার মনে কামনা জাগে শিশু খাদ্য দেখে?  প্রশ্ন করবে নিজেকে নিজে কি পরিবর্তন দরকার! চার এপাশের সমাজ ব্যবস্থা নাকি রাষ্ট্রের সরকার? --কুয়েত থেকে ১০ /০৫ /২০২৫